Man’s Search for Meaning in Bangla: a promise of a meaningful life

Man’s Search for Meaning in Bangla: a promise of a meaningful life

Last Updated on 2 weeks by Romzanul Islam

This is the Preface of Man’s Search for Meaning in Bangla. The book is being translated into the Bangla language. The complete book will be published by a local publication once the process is complete. Man’s Search for Meaning is one of the best-selling books in the world written by Austrian neurologist, psychiatrist, and philosopher Victor Emil Frankl.

ভূমিকা: Man’s Search for Meaning in Bangla

ভিক্টর ফ্রাঙ্কলের Man’s Search for Meaning বইটি আমাদের সময়ের বিখ্যাত বইগুলির মধ্যে একটি। সাধারণত, যদি কোনও বইয়ে এমন কোন অংশ থাকে যার রয়েছে কোন মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার ক্ষমতা তাহলে বইটি বারংবার পড়ার ও নিজের বইয়ের তাকে জায়গা করে নেওয়ার ন্যায্যতা।  বইটিতে এরকম বেশ কয়েকটি অংশ রয়েছে।

সর্বাগ্রে এটি একটি বেঁচে থাকার বিষয়ে বই। অনেক জার্মান এবং পূর্ব ইউরোপীয় ইহুদি যারা নিজেদেরকে সুরক্ষিত মনে করেছিল, ফ্র্যাঙ্কল তাদের মতো একজন যাকে নাৎসি বন্ধি এবং উচ্ছেদ শিবিরের অন্তর্জালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। বাইবেলের কথা “অগ্নি হইতে উদ্ধৃত অর্ধদগ্ধ কাষ্ঠস্বরূপ” এর মতো তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন। তারপরও বইটি তার বেঁচে থাকার যন্ত্রনা, কষ্টভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও তার বেচে থাকার শক্তির উৎস সম্পর্কে একটি বিবরণ। বইটিতে ফ্যাঙ্কল জার্মাল দার্শনিক ফ্র্যড্রিক নিটসের উদ্ধৃতি He who has a Why to live for can bear almost any How অর্থাৎ যার ‘কেন’ বেঁচে থাকতে হবে তার কারণ রয়েছে সে প্রায় যে কোন ‘উপায়ই’ সহ্য করতে সক্ষম।

তিনি শানিতভাবে  বর্ণনা করেছেন কারাবন্দীদের যাঁরা জীবনের উপর আশা ছেড়ে দিয়েছিলো, যারা হারিয়েছিল ভবিষ্যতের সব আশা-প্রত্যাশা আর তারাই অনিবার্যভাবে মারা গিয়েছিল। খাবার আর ঔষধ-পত্রের সংকঠের চেয়েও তারা মারা গেছে আশা-প্রত্যাশা আর বেঁচে থাকার জন্য কোন কিছু না থাকার দরুন। অপর দিকে, ফ্র্যাঙ্কল যুদ্ধের পর তার স্ত্রীকে দেখতে পাওয়ার চিন্তাকে জাগ্রত  আর যুদ্ধের পর অশউইটয শিবির থেকে লব্ধ অভিজ্ঞতার উপর মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে শিক্ষা প্রদানের স্বপ্নে দেখার মধ্য দিয়েই তিনি নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। স্পষ্টতই যে বন্দীরা বেপরোয়াভাবে বেঁচে থাকতে চেয়েছিল তারা মারা গিয়েছিল, কেউ ব্যাধিয় আর কেউ কেউ  শবচুল্লিতে। তবুও, ফ্রাঙ্কল ‘কেন অনেকেই মারা গিয়েছে’ সে প্রশ্নে বিচলিত হওয়ার চেয়ে ‘কেনো কেউ বেচে থেকেছে’ সে প্রশ্নে বিচলিত ছিলেন।  

অশউইটয (Auschwitz) শিবিরে তাঁর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই তার অন্যতম মূল ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে তুলে। জীবন মানে মূলত আনন্দের সন্ধান  করা নয়, যেমন সিগমুন্ড ফ্রয়েড বিশ্বাস করেতেন, বা আলফ্রেড অ্যাডলারের মতে ক্ষমতা বা প্রতিপত্তির সন্ধানও নয়, বরং তার অর্থের সন্ধান করা। কারও জীবনে মহান বা মহৎ কাজ হলো তার জীবনের অর্থ সন্ধান করা। জীবনের সে অর্থের পেছনে ফ্র্যাঙ্কল তিনটি সম্ভাব্য উৎস লক্ষ্য করেন: কর্ম (কারো জন্য অর্থবহ কোন কিছূ করা), ভালবাসা ( কারো প্রতি প্রতি যত্নশীল  হওয়া, যেমনটা ফ্রাঙ্কল অশউইটয (Auschwitz)  শিবিরে কঠিন সময়ের মাঝেও তার স্ত্রীর ছবিটি আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন), এবং কঠিন সময়ে মনোবল। যন্ত্রনাভোগ ও যন্ত্রনা নিতান্তই অর্থহীন; তবে যন্ত্রনার প্রতি আমারা কিরূপ সাড়া দিয়ে থাকি তার উপরই নির্ভর করে এর অর্থ।

এক পর্যায়ে তিনি লিখেন যে,  “একজন মানুষ সাহসী, মর্যাদাপূর্ণ এবং নিঃস্বার্থ থাকতে পারে বা আত্মরক্ষার তিক্ত লড়াইয়ে সে তার মানবিক মর্যাদাকে ভুলে গিয়ে পশুতেও রুপান্তরিত হবে পারে।” তিনি স্বীকার করেন যে নাৎসি বন্ধিদের খুব কম লোকই মর্যাদাপূর্ণ এবং নিঃস্বার্থ থাকতে পেরেছে, “তারপরও মানুষের অভ্যান্তরিণ শক্তি যে  তাকে তার বাহ্যিক পরিণতির উর্দ্ধে উপস্থাপন করতে পারে তা প্রমান করার জন্য তেমনি একটি মাত্র উদাহারনই যথেষ্ট”।

পরিশেষে, ফ্রাঙ্কলের সবচেয়ে স্থায়ী অন্তর্দৃষ্টি, যা আমি প্রায়শঃই আমার নিজের জীবন ও চিকিৎসা পরামর্শ বা কাউন্সেলিং পরিস্থিতিতে অসংখ্যবার পেশ করেছি: আপনার নিয়ন্ত্রনের বাইরের শক্তি হয়তো আপনার সবকিছুই কেড়ে নিতে পারে কেবল একটি জিনিস ব্যতিত, আর তা হলো কোন পরিস্থিতিতে আপনি কিভাবে সাড়া দিবেন তা নির্বাচন করার স্বাধীনতা। আপনার জিবনে যাকিছু ঘটে আপনি নিয়ন্ত্রন করতে পারেন না, কিন্তু আপনার জীবনে যা ঘটে যায় তার প্রতি আপনার অনুভুতিকে আপনি নিয়ন্ত্রন করতে পারেন।

আমেরিকান নাঢ্যকার আর্থার মিলের Incident of Vichy নাটকের এক দৃশ্যে দেখা যায় যে উচ্চ-মধ্য-শ্রেণীর একজন পেশাজীবিকে তার শহরটি দকল করা নাৎসি কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থিত হয়ে তার বিশ্ববিদ্যালয় প্রসংশাপত্র, বিখ্যাত ব্যক্তিদের পরিচয়পত্রাধি প্রদর্শন করেন। তাতে নাৎসি কর্তৃপক্ষ জিজ্ঞেস করেন, এর সকবিছুই কি আপনার? তিনি মাথা নেড়ে বলেলেন হ্যাঁ। নাৎসি কর্তৃপক্ষ তখন সবকিছু ময়লার ঝুড়িতে নিক্ষেপ করে বলেন ‘চমৎকার, তোমার এখন কিছুই নেই’।

লোকটি, যার আত্মসম্মান সর্বদা অন্যের শ্রদ্ধার উপর নির্ভরশীল ছিল, আবেগগতভাবে বিপর্যস্ত হয়। ফ্রাঙ্কলের বিতর্ক হলো যে যতক্ষণ না আমাদের কোনো পরিস্থিতিতে কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব তা নির্বাচন করার স্বাধীনতা বজায় থাকে ততক্ষন কেউ আমাদের কাছ থেকে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিতে পারে না।

আমার নিজস্ব মণ্ডলীর অভিজ্ঞতা আমাকে ফ্রাঙ্কেলের অন্তর্দৃষ্টির সত্যতা প্রমান করেছে। আমি একজন সফল ব্যবসায়ীদের চিনতাম যারা অবসর নেওয়ার পর পরই জীবনের সমস্ত উত্সাহ-উদ্দিপনা হারিয়ে ফেলে। তাদের কাজই তাদের জীবনকে অর্থবয় করে তুলে। প্রায়শই তাদের কাজই তাদের জীবনকে অর্থ প্রদান করে আর কাজহীন অবসরে তারা দিনের পর দিন হতাশায় বসে দিনযাপন করে। আমি এমনও লোকদের চিনি যারা চূড়ান্তভাবে সবচেয়ে ভয়াবহ যন্ত্রনা ও পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহন করেছিলেন যতক্ষণ তারা বিশ্বাস করেছিল যে তাদের দুঃখকষ্টের মধ্যে কোন অর্থ রয়েছে। হতে পারে তা এটি পারিবারিক মাইলফলক যে তারা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে চেয়েছিল বা তাদের দুঃখকষ্ট পর্যাবেক্ষনের পর ডাক্তারদের সন্ধান পাওয়ার নিরাময়ের সম্ভাবনাকে জানিয়ে দিতে যে তাদের বেঁচে থাকার ‘কারণ’ই তাদের ‘কিভাবে’ বাচতে হয় তার সক্ষমতা দান করেছে।

 আর ফ্রাঙ্কলের অভিজ্ঞতার সাথে আমার নিজের অভিজ্ঞতা প্রতিধ্বনিত হয়  অন্যভাবে। যেমনটি আমার লিখা When Bad Things Happen to Good People বইয়ের চিন্তা-ধারা সমূহ শক্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে সমর্থ হয় কারণ আমাদের ছেলের অসুস্থতা ও মৃত্যুকে অনুধাবন করতে আমাদের সংগ্রামকে কেন্দ্র করে পেশ করা হয়েছিল, তেমনি অর্থবহ জীবনের প্রতি ধাবিত করে অন্তরাত্তার সুস্থতার জন্য ফ্রাঙ্কলের logotherapy বা লগোথেরাপি বা মর্মচিকিৎসা মতবাদ অশউইটয বন্ধি শিবিরের যন্ত্রনাময় পরিস্থিতি ব্যতিরেখে  বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে। প্রথম অংশটি ব্যতিত বইটির শেষার্ধটি হবে খুব কমই অর্থবহ।

আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ন মনে হয় যে বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ড. গর্ডন আলপোর্ট  Man’s Search for Meaning এর ১৯৬২ সংস্করনের ভুমিকাটি লিখেছিলেন, আর একজন ধর্মযাজকই এই পুনঃসংস্করণের ভুমিকাটি লিখেছেন। আমরা অনুধাবন করতে সমর্থ হয়েছি যে নিগূড়ভাবে এটি একটি ধর্মীয় বই। যে, জীবন যে অর্থবহ এবং আমাদের পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমাদের জীবনকে যে অর্থপূর্ণভাবে দেখা দরকার তার দিকে বইটি বিশেষ জোর দেয়।  যে জীবনের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য রয়েছে। আর এর আসল সংস্করণে, পরিশিষ্ট যুক্ত হওয়ার পুর্বে, ভুমিকাটি বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে অধিক লিখিত ধরর্মীয় বাখ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়:

আমাদের প্রজন্ম বাস্তবাদী, কারণ আমরা মানুষের প্রকৃত রূপ জেনেছি।
সর্বোপরি, মানুষই হলো সেই সত্তা যে অশউইটয এর গ্যাস চেম্বার উদ্ভাবন করেছে;
তথাপি, সমুন্নত শীরে প্রভুর প্রার্থনা বা শ্যামা ইসরাইল মুখে
যারা সেই গ্যাস চেম্বারে প্রবেশ করেছে তারাও সে একই সত্তা।

হ্যারল্ড এস. কুশের
বিশিষ্ট আমেরিকান রেবাই

Read more: Idol Worship And Idle Brain Of Ideal Idiots Of Insularity

Romzanul Islam

The administrator and contributor of the contents is a writer, reader and researcher of passion.

Leave a Reply